Header Ads Widget

রুদ্ধ হলো পথ: গাজার দিকে ছুটে চলা ফ্লোটিলার জাহাজ থামিয়ে দিল ইসরায়েলি নৌবাহিনী।


 

ইসরায়েলি নৌবাহিনীর হাতে গাজাগামী ত্রাণবহর আটক: আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েলি নৌবাহিনী গাজাগামী 'গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা (GSF)'-এর বেশ কয়েকটি জাহাজ আটক করেছে এবং জাহাজে থাকা কর্মীদের আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গও রয়েছেন। এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

মূল ঘটনা ও ইসরায়েলের অবস্থান

  • আটক ও নিরাপত্তা: ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্লোটিলার জাহাজগুলো "নিরাপদে থামানো হয়েছে" এবং কর্মীদের একটি ইসরায়েলি বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

  • কারণ প্রদর্শন: ইসরায়েল দাবি করেছে, জাহাজগুলো "সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রের" দিকে এগিয়ে আসছিল এবং একটি "আইনসম্মত নৌ অবরোধ" লঙ্ঘন করছিল, তাই তাদের পথ পরিবর্তন করতে বলা হয়েছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আটককৃত কর্মীদের ইউরোপে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও জানায়।

  • গ্রেটা থুনবার্গ: ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ থুনবার্গকে আটকের পর একটি ভিডিও প্রকাশ করে এবং জানায়, "গ্রেটা এবং তার বন্ধুরা নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।" ইসরায়েল এই ত্রাণবহরকে "উস্কানি" হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ফ্লোটিলার অভিযোগ ও আন্তর্জাতিক নিন্দা

  • GSF-এর প্রতিক্রিয়া: ফ্লোটিলার আয়োজকরা ইসরায়েলি হস্তক্ষেপকে "অবৈধ" এবং "ভয়ঙ্কর মরিয়া কাজ" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তারা অভিযোগ করেছে যে একটি জাহাজকে "ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা দেওয়া" হয়েছে এবং অন্যগুলোতে জল কামান (ওয়াটার ক্যানন) ব্যবহার করা হয়েছে।

  • যোগাযোগ বিচ্ছিন্নকরণ: GSF অভিযোগ করেছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আপৎকালীন সংকেত বন্ধ করতে এবং সরাসরি সম্প্রচার আটকাতে ইচ্ছাকৃতভাবে জাহাজের যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

  • আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:

    • কলোম্বিয়া: প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই আটককে "নেতানিয়াহুর আন্তর্জাতিক অপরাধ" আখ্যা দিয়ে ইসরায়েলের অবশিষ্ট সকল কূটনীতিককে বহিষ্কার এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করেছেন।

    • তুরস্ক: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আটককে "সন্ত্রাসী কাজ" হিসেবে নিন্দা করেছে এবং জড়িতদের জবাবদিহি দাবি করেছে।

    • আয়ারল্যান্ড: উপ-প্রধানমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস এই খবরকে "উদ্বেগজনক" বলে অভিহিত করেছেন এবং আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার দাবি জানিয়েছেন। আটককৃতদের মধ্যে সিনেটর ক্রিস অ্যান্ড্রুসহ কমপক্ষে সাতজন আইরিশ নাগরিক রয়েছেন।

    • জাতিসংঘ ও ইউনিয়ন: জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক গাজার ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার এবং "বাধা ছাড়াই" মানবিক ত্রাণ প্রবেশের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন। ইতালীয় শ্রমিক ইউনিয়নগুলোও ফ্লোটিলার সমর্থনে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।


গাজা এবং মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপট

এই নৌ-মিশনটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো গাজায় খাদ্য ও ওষুধ ঢোকাতে গিয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।

  • অনাহার ও দুর্ভিক্ষ: জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি গোষ্ঠী নিশ্চিত করেছে যে গাজায় দুর্ভিক্ষ চলছে। জাতিসংঘের মানবিক প্রধান এর জন্য ইসরায়েলের "পদ্ধতিগত বাধা"-কে সরাসরি দায়ী করেছেন, যদিও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই অভিযোগকে " outright lie" (সম্পূর্ণ মিথ্যা) বলেছেন।

  • ইসরায়েলের দাবি: ইসরায়েল বলছে, তারা ত্রাণ সরবরাহে বাধা দিচ্ছে না, বরং এসব সামগ্রী হামাসের হাতে পড়া ঠেকাতে চাইছে।

  • থুনবার্গের জবাব: ফ্লোটিলাকে 'পাবলিক স্টান্ট' বলায় গ্রেটা থুনবার্গ মন্তব্য করেছেন, "আমার মনে হয় না কেউ প্রচারের জন্য নিজের জীবন বিপন্ন করবে।"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ