গাজায় চলমান যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে, আর তারই কঠিন মূল্য দিতে হচ্ছে ইসরায়েলকেও। চলমান সংঘাতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,১৫২ জন ইসরায়েলি নিরাপত্তাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, যা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় সামরিক ক্ষতির অন্যতম বলে বিবেচিত হচ্ছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একের পর এক সামরিক অভিযান, বিমান হামলা এবং স্থলযুদ্ধে উভয় পক্ষই ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এর মধ্যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী, পুলিশ এবং বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের অনেকেই সামনের সারিতে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা সদস্য রয়েছেন যারা গাজা উপত্যকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালানোর সময় প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক, ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল প্রাণহানি ইসরায়েলের সামরিক ও কৌশলগত পরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর মনোবল এবং জনসমর্থনেও চাপ পড়ছে।
অন্যদিকে, গাজার মানবিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন বলছে, লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে শরণার্থী হয়েছেন এবং খাদ্য, পানি ও চিকিৎসার সংকট চরমে পৌঁছেছে।
যুদ্ধের দ্রুত অবসানের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের আহ্বান অব্যাহত থাকলেও, মাঠের পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল নয়। ফলে প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের এই মিছিল আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞরা।


0 মন্তব্যসমূহ