গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে হামাসের প্রতিক্রিয়া এবং সেই প্রতিক্রিয়াকে ট্রাম্পের স্বাগত জানানোর ঘটনায় আশা ও সংশয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রাতারাতি ঘটতে থাকা দ্রুত ঘটনাপ্রবাহে অনেকে হতভম্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শত শত ফিলিস্তিনি লিখছেন — “যুদ্ধ কি সত্যিই শেষ?” বা “এটা কি স্বপ্ন, নাকি বাস্তব?”
হামাসের ঘোষণাটি ছিল সতর্কভাবে প্রস্তুত করা এক বিবৃতি, যা মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করে দলটি দিয়েছে ‘শর্তসাপেক্ষে হ্যাঁ’।
কী বলেছে হামাস
হামাস ট্রাম্পের প্রস্তাবের মধ্যে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি এবং গাজার প্রশাসনকে ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের হাতে হস্তান্তর করার ধারণায় সম্মতি জানিয়েছে। তবে ২০ দফা পরিকল্পনার অন্যান্য বিষয়ে তারা স্পষ্ট কিছু বলেনি।
ফিলিস্তিনিদের মতে, এটি ছিল এক গণনাপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ, যা এখন বলটা ইসরায়েলের কোর্টে ঠেলে দিয়েছে।
বিবৃতির পরপরই ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, তিনি বিশ্বাস করেন “হামাস শান্তির জন্য প্রস্তুত”, এবং ইসরায়েলকে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করার আহ্বান জানান।
গাজায় প্রতিক্রিয়া: আশা, আতঙ্ক ও সংশয়
গাজার মানুষজনের প্রতিক্রিয়া একেবারেই বিভক্ত — কেউ দেখছেন ঐতিহাসিক সুযোগ, কেউ আবার চতুর ফাঁদ।
স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম ফারেস বলেন,
> “ধৈর্য ধরুন। অতিরিক্ত আশাবাদী হবেন না। এখনো বিস্তারিত আলোচনার ধাপ বাকি। শয়তান লুকিয়ে থাকে খুঁটিনাটিতে।”
আরেক ফিলিস্তিনি মাহমুদ দাহের ফেসবুকে লিখেছেন,
> “এবার হামাসের উত্তরটা ছিল ভিন্ন—একটা স্পষ্ট ‘হ্যাঁ’। সাধারণত ‘কিন্তু’ শব্দটা সঙ্গে সঙ্গে আসে, এবার তা এল পরে। বন্দি বিনিময়, যুদ্ধবিরতি, ক্ষমতা হস্তান্তর—সবকিছুর প্রতিই সম্মতি জানিয়েছে।”
তবে কেউ কেউ সন্দেহ করছেন হামাসের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়েই।
গাজার মানবাধিকার কর্মী ও দীর্ঘদিনের হামাস সমালোচক খালিল আবু শাম্মালা বলেন,
> “তারা বলবে এটা প্রজ্ঞা, কিংবা জনগণের স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত। কিন্তু সত্যি কথা হলো, এটা তাদের টিকে থাকার কৌশল। আমি তো সন্দেহ করি, বিবৃতিটা তারাই লিখেছে কি না।”
সামনে কী?
এখন গাজার মানুষ অপেক্ষায়—কাগজে লেখা এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে যুদ্ধের ই
তি টানতে পারবে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।


0 মন্তব্যসমূহ