নিচে বিস্তারিত বিশ্লেষণসূচক সংবাদ:
---
দুই বছর পর হামাস: শক্তি, সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষের দুই বছরের মাথায়, হামাস এখন একটি বিপর্যস্ত হলেও পুরোপুরি বিনষ্ট হয়নি এমন অবস্থানে রয়েছে। অনেকেই বলছেন — “হারেনি, কমেছে” — অর্থাৎ এখন যুদ্ধ তারা চলে গেরিলা ও ছড়াছড়ি কর্মসূচির মাধ্যমে।
---
১. সামরিক ও নেতৃত্বগত ক্ষতি ও ছিন্নবিচ্ছিন্নতা
ইসরায়েলি বাহিনী মোতায়েন কৌশলগত হামলায় হামাসের অনেক শীর্ষ নেতা ও ক্যাডারকে হত্যা করেছে। অনেক পুরনো কমান্ডার দল ধ্বংস হয়েছে বা অপসৃত হয়েছে।
বর্তমানে হামাস “আর্মি” হিসেবে কাজ করতে পারছে না; বরং স্থানীয় গেরিলা সেলে বিভক্ত হয়ে কাজ চালাচ্ছে।
নতুন সদস্য নিয়োগ হলেও তারা অভিজ্ঞতার দিক থেকে পুরাতন ক্যাডারদের বিকল্প হতে পারছে না।
---
২. শাসন ও সুশাসন ব্যবস্থার ঘাটতি
গাজায় হামাস যে শাসন ও প্রশাসনিক কাঠামো চালিয়ে আসেছিল, তা ক্রমহ্রাস পাচ্ছে। বিশেষ করে অবকাঠামো ধ্বংস, বিদ্যুৎ ও পানি জট, বেসরকারি সেবার বিপর্যয় প্রভৃতি বিষয় এতে বড় ভূমিকা রাখছে।
জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও অবস্থা নিয়ে সন্দেহ বৃদ্ধি পাচ্ছে; কেউ কেউ হামাসকে দায়িত্বশীল হিসেবে দেখে না।
---
৩. প্রতিরোধ ও অনুজাগরণ
যদিও বড় মাপের আক্রমণ করতে পারছে না, গেরিলা স্টাইলে হামাস এখনও বিরোধিতা চালিয়ে যাচ্ছে — অস্থায়ী হামলা, গড়াগড়ি সংঘর্ষ, বিস্ফোরক হামলা ইত্যাদি।
গাজার বিভিন্ন অঞ্চলে decentralised সেল ও স্বাধীন দলগুলি কাজ করছে — একক কমান্ডের পরিবর্তে “ছড়াছড়ি” কার্যপন্থা।
মিডিয়া, তথ্যযুদ্ধ ও প্রতিরূপ কৌশল (narrative warfare) হামাসের একটি শক্তি হিসেবে কাজ করছে — তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও অর্গানাইজেশনাল কূটনীতিতে নিজেদের বিবৃতি তুলে ধরছে।
---
৪. বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রভাব ও সমর্থন
হামাসের অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে জোরপ্রত্যয় রয়েছে, বিশেষ করে ইরান, কাতার, তুরস্ক ইত্যাদির সমর্থন ও প্রভাব থাকতেই পারে।
তবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের হাতে থাকায় অস্ত্র সরবরাহ, পুনর্ব্যবস্থা ও বাহকিক যোগাযোগ সীমাবদ্ধ।
---
৫. ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ ও সিদ্ধান্ত
একজন বিশ্লেষক বলছেন, হামাস এখন “বেঁচে থাকার সিদ্ধান্ত” নিতে হবে — অস্ত্র ত্যাগ করে রাজনৈতিক দল হিসেবে রূপান্তর নাকি অব্যাহত গেরিলা সংগ্রাম।
যুক্তরাষ্ট্র-প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ ও রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে — এটি তাদের জন্য “এক্সিসটেন্সিয়াল” (অস্তিত্বগত) পরীক্ষা হতে পারে।
যদি হামাস সেই সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা রাজনীতিতে নামবে, তা তাদের কঠিন অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বাধা পাবে: ক্ষমতা ভাগাভাগি, জনমতের চাপে, অর্থনৈতিক সংকট ইত্যাদি নিশ্চিত।
---
সারমর্ম
দুই বছর পার হলেও হামাস পুরোপুরি হারায়নি। তবে সে এখন অনেক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে, বড় আক্রমণ চালাতে অপারগ, নেতৃত্ব ও কাঠামোর সমস্যায় পড়ে আছে। সাধারণভাবে — “ক্ষেত্রেয়া বানিজ্য এখন গেরিলা” — অর্থাৎ সামরিক যুদ্ধকে রূপান্তর করে গেরিলা, সংবাদ ও জনমত চালিয়ে যাওয়ার পথ ধরেছে। যদি ভবিষ্যতে অস্ত্র ত্যাগ ও রাজনৈতিক রূপ নেয়, তাহলে তা হবে একটি নতুন অধ্যায়। কিন্তু সেটি তার জন্য সহজ হবে না
— বাইরের চাপ, ভেতরের দুশ্চিন্তা, অর্থ ও জনমত বিষয় সবই তাকে বাধাগ্রস্ত করবে।


0 মন্তব্যসমূহ