বিস্তারিত নিউজ:
ফ্রান্স জুড়ে সরকারী ব্যয় হ্রাসের নীতির প্রতিবাদে ব্যাপক দেশব্যাপী ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার ফলে প্যারিসের আইফেল টাওয়ারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ধর্মঘটের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারের austerity বা ব্যয় হ্রাস নীতি বিরোধিতা করা, যা সাধারণ নাগরিক ও শ্রমিকদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে।
ধর্মঘটের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সরকারি অফিসেও বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, আইফেল টাওয়ার বন্ধ হওয়ায় পর্যটকদের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং ব্যবসায়িক ক্ষতি দেখা দিয়েছে। প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে জরুরি পরিষেবা সীমিত থাকায় নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনও প্রভাবিত হয়েছে।
ফ্রান্সের শ্রমিক ইউনিয়ন এবং সামাজিক সংগঠনগুলো এই ধর্মঘটকে সরকারের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিবাদ হিসেবে দেখছে। তারা দাবি করছে যে, সরকারি ব্যয় হ্রাস নীতি শুধুমাত্র জনসাধারণের উপর বোঝা বাড়াচ্ছে এবং সামাজিক অসমতা আরও বাড়াচ্ছে।
সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে সংলাপ শুরু করেছে। তবে শ্রমিক ও নাগরিকদের দাবিকে পূর্ণরূপে সমাধান করতে এখনো সময় লাগবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ধর্মঘটের এই ঢেউ দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনাকে তীব্রতর করেছে, এবং এটি ফ্রান্সের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতির উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
প্যারিসে, ২ অক্টোবর, ২০২৫ - একজন বিক্ষোভকারী LVMH-এর সিইও বার্নার্ড আর্নল্টের একটি পোস্টার ধরে আছেন, যেখানে লেখা আছে "বি আর্নল্ট ৬টি কর আশ্রয়স্থল ব্যবহার করেন, চোর"। ছবি: এপি
সরকার ভেঙে পড়ে
ফ্রাঁসোয়া বেয়রোর নেতৃত্বে পূর্ববর্তী সংখ্যালঘু সরকার সেপ্টেম্বরের গোড়ার দিকে সংসদে একটি গুরুত্বপূর্ণ আস্থা ভোটে হেরে যাওয়ার পর ভেঙে পড়ে।ফ্রান্সের ভঙ্গুর সরকারি অর্থব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য বেয়রো বেশ কয়েকটি অজনপ্রিয় পদক্ষেপের প্রস্তাব করেছিলেন।গত বছরের ঘাটতি জিডিপির ৫.৮%-এ পৌঁছেছে, যা ইইউ-এর ৩%-এর প্রায় দ্বিগুণ, যেখানে জাতীয় ঋণ এখন ৩.৩ ট্রিলিয়ন ইউরোরও বেশি, যা অর্থনৈতিক উৎপাদনের প্রায় ১১৪%।

0 মন্তব্যসমূহ